Friday, February 10, 2012

Trend Spotting (শেষ পর্ব)


আজ আমরা Trend Spotting-এর সারসংক্ষেপ এবং ট্রেন্ড চিহ্নিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করব। সঠিকভাবে retracements এবং reversals চিহ্নিত করতে সক্ষম হলে একজন বিনিয়োগকারী বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারেন। এখন আমরা এই retracements ও reversals সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে কিছু শর্টকাট টেকনিক শিখে নিব। প্রথমে আসা যাক retracements বিষয়ে।
১. Retracements সাধারণত একটি লম্বা সময় মূল্য-পরিবর্তনের পর সংগঠিত হয়। ২. এই retracements-টি খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য reversals হয়। ৩. Fundamental কোনো বিষয় পরিবর্তন হয় না। ৪. আপ ট্রেন্ডে সেই সময় ক্রয়চাপ থাকে এবং একটি মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী রেলি তৈরি হয় এবং ডাউন ট্রেন্ডে বিক্রয়চাপ বেশি হয় এবং মূল্য কমতে থাকে।
অন্যদিকে ১. reversals যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে। ২. একটি লম্বা সময়ের জন্য এই reversals সংগঠিত হয়ে থাকে। ৩. অনেক সময় Fundamental  বিষয়গুলোও পরিবর্তন হয়ে থাকে, ফলে একটি লম্বা সময়জুড়ে reversals হয়ে থাকে। ৪. আপ ট্রেন্ডে তেমন ক্রয়চাপ পরিলক্ষিত হয় না এবং ডাউন ট্রেন্ডেও খুব কম বিক্রয়চাপ দেখা যায়। একজন বিনিয়োগকারী Fibonacci retracement ব্যবহার করে retracement লেভেলগুলো বুঝতে পারবেন। Fibonacci এর বিভিন্ন লেভেল সাধারণত support এবং resistance হিসেবে কাজ করে থাকে। শেয়ারের দাম যদি retracement  এর যেকোনো লেভেল থেকে Bounce করে, তবে বুঝতে হবে সেটি হবে retracement এবং যদি Bounce  না করে ব্রেক করে, তবে সেটি reversal বলে বিবেচিত হয়। আবার অনেক সময় একটি ট্রেন্ড লাইন দিয়েও reversal বুঝা যায়। যখন দেখা যায়, একটি ট্রেন্ড লাইন ব্রেক করে ওপরে অথবা নিচে যায়, তখন বুঝতে হবে একটি শক্তিশালী reversal ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। আপনি এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করতে পারেন একটি retracements এবং reversals সংকেত চিহ্নিত করার জন্য।


Trend Spotting (পর্ব-৩)


গত কয়েক পর্বের ধারাবাহিকতায় আজ আমরা Trend Spotting-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় Retracement Reversal নিয়ে আলোচনা করব। অনেক বিনিয়োগকারী ও অ্যানালিস্টরা মাঝেমধ্যে ট্রেন্ড Retracement এবং Reversal নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়ে থাকেন। অনেকে আবার এই দুটিকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারেন না। আজ আমরা এ বিষয় দুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। Retracement হচ্ছে, পূর্ব গঠিত একটি ট্রেন্ডের বিপরীত অস্থায়ী ও সাময়িক মুভমেন্ট। অন্যভাবে বলা যায়, Retracement হচ্ছে ট্রেন্ডের বিপরীতে মুভমেন্ট। চিত্রে লক্ষ করুন, দেখবেন শেয়ারের ট্রেন্ডটি আপ ট্রেন্ডে ছিল; কিন্তু কিছু সময় পর পর আবার একটু ডাউন ট্রেন্ডে ছিল; কিন্তু সেই ট্রেন্ডটি স্থায়ী হয়নি এবং আবার সেই শেয়ারের দাম আপ ট্রেন্ডে চলে গেছে। এটিকে আমরা Retracement  বলতে পারি।
চিত্রের দ্বিতীয় অংশে ডাউন ট্রেন্ডকে আমরা Retracement বলতে পারব না, কারণ তখন শেয়ারটির দাম মূল ট্রেন্ডের বিপরীতে অনেক বেশি সময় ছিল। এবার আসা যাক Retracement বিষয়ে। যখন একটি ট্রেন্ডের গতি সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যায়, তখন সেই পরিবর্তনকে Reversal হিসেবে ধরে নিতে হবে। যখন আপ ট্রেন্ড থেকে শেয়ারের মূল্য ডাউন ট্রেন্ডে যায় অথবা ডাউন ট্রেন্ড থেকে মূল্য আপ ট্রেন্ডে যায়, তখন সাধারণত Reversal সংগঠিত হয়ে থাকে।
চিত্রটিতে দেখুন, শেয়ারটির দাম একটি স্পষ্ট আপ ট্রেন্ডে ছিল এবং Reversal সংগঠিত হওয়ার পর ডাউন ট্রেন্ডে চলে যায় এবং ডাউন ট্রেন্ডটি বেশ কিছুদিন স্থায়ী ছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি যদি দেখেন একটি Reversal অথবা Retracement হচ্ছে, তখন আপনি কী করবেন? যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তবে আপনি প্রথমত আপনার শেয়ার ধরে রাখতে পারেন এবং Retracement-এর জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আপনি আপনার শেয়ার বিক্রি করে পরে কম দামে বাইব্যাক করতে পারেন। তৃতীয়ত, আপনি শেয়ার বিক্রি করে বাইব্যাক না-ও করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে। একমাত্র আপনিই আপনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।


Trend Spotting (পর্ব-২)

আজ আমরা ranging নিয়ে আলোচনা করব। ranging হচ্ছে, একটি মার্কেট যখন নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে বারবার ওঠানামা করে এবং রেঞ্জটির আওতা হচ্ছে মূল্যর উচ্চসীমা এবং মূল্যের নিম্নসীমা। বারবার মার্কেট এই রেঞ্জের মধ্য ওঠানামা করে বিধায় এটিকে ranging বলা হয়। চিত্রে একটু লক্ষ করলে দেখতে পাবেন, শেয়ারটির দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করে। কিন্তু সেই রেঞ্জটি ব্রেক করতে পারেনি। এ ধরনের বাজারে বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা low price  লেভেলে শেয়ার ক্রয় করেন এবং high price লেভেলে বিক্রি করেন। এই ranging মার্কেটেও আপনি Stochastic এবং RSI Indicator ব্যবহার করতে পারেন। আবারও চিত্রে দেখুন, আমরা Stochastic ব্যবহার করেছি।
এই টুলটি ব্যবহার করা হয়েছে বাজারে overbought এবং oversold চিহ্নিত করার জন্য। খেয়াল করুন, যখন শেয়ারটির দাম ওপরের লেভেলটি ব্রেক করতে পারেনি, তখন দেখুন Stochastic-টিও overbought অবস্থায় ছিল। এ কারণে শেয়ারটির দাম কমে যায়। ঠিক একইভাবে নিচের দিকের লেভেলও ব্রেক করতে পারেনি এবং সেই সময় Stochastic-টিও oversold অবস্থায় ছিল। সুতরাং, আপনি কিন্তু এই পদ্ধতিতে আপনার Entry এবং Exit-এর সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। আপনি যখন trending অথবা ranging মার্কেটে ট্রেড করবেন, তখন আপনার ধারণা থাকা উচিত, কী পরিমাণ মুনাফা অথবা লোকসান হতে পারে। এরপর আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে tops এবং bottoms যেটিtrending ranging এবং উভয় মার্কেটের জন্য প্রযোজ্য। আপনি যদি এই trending এবং ranging সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন, তবে আপনি আপনার বিনিয়োগ-কৌশল খুব সহজেই ঠিক করতে পারবেন এবং বিনিয়োগ ঝুঁকি অনেক কমিয়ে আনতে পারবেন।

Trend Spotting (পর্ব-১)


যখন দুইজন যোদ্ধা যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হয়, তখন শুধু বোকা যোদ্ধাই কেবল কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু বুদ্ধিমান যোদ্ধা একটি পরিকল্পনা নিয়েই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকে। ঠিক তেমনি আপনারও উচিত, একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা। আর সেই জন্য আপনাকে বাজারের গতিবিধি বা ট্রেন্ড বুঝতে হবে। বাজারে সাধারণত তিন ধরনের ট্রেন্ড পরিলক্ষিত হয়। এগুলো হচ্ছে ১. আপ ট্রেন্ড, ২. ডাউন ট্রেন্ড, ৩. রেঞ্জিং। আজ আমরা দেখব Trending Market কী এবং এই বিষয়টি কীভাবে আপনার কাজে আসবে। Trending Market হচ্ছে একটি মার্কেট, যখন নির্দিষ্ট ট্রেন্ডে অনেক দিন যাবৎ চলতে থাকে। চিত্র লক্ষ করুন ও দেখুন একটি পরিষ্কার ডাউন ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। তার মানে আমরা এই ট্রেন্ডটিকে Trending বলতে পারি। কারণ, অনেক দিন যাবৎ এই ট্রেন্ডটি অব্যাহত ছিল। আপনি আপ ট্রেন্ড  বুঝতে পারবেন, যখন ‘higher highs’এবং  ‘higher lows’ দেখতে পাবেন এবং ডাউন ট্রেন্ড বুঝবেন ‘lower highs’ ও ‘lower lows’ দেখে।
আপনি এই Trending মার্কেটেও Moving Average টুলসটি ব্যবহার করতে পারেন। আপনি ৭ দিন, ২০ দিন এবং ৬৫ দিনের  Simple Moving Average (SMA) নিতে পারেন। একটু ভালোভাবে লক্ষ করুন, যখন ওপর দিক থেকে ৭ দিনের SMA ২০ দিনের SMA কে অতিক্রম করে এবং ২০ দিনের SMA ৬৫ দিনের কে অতিক্রম করে, তখন মূল্যর trending up সংগঠিত হয়। আবার ঠিক উল্টোভাবে যখন নিচের দিক থেকে ৭ দিনের SMA ২০ দিনের SMA কে অতিক্রম করে এবং ২০ দিনের SMA ৬৫ দিনের কে অতিক্রম করে, তখন মূল্যর trending down সংগঠিত হয়। চিত্রে ঠিক এই বিষয়টিই দেখানো হয়েছে।

The Rate-of-Change (ROC)


The Rate-of-Change (ROC) Indicator-টি সাধারণত একটি momentum এবং অনেক সময় এই Indicator-কে একটি বিশুদ্ধ momentum oscillator-ও বলা হয়। সাধারণত এই Indicator-টি একটি নির্দিষ্ট সময় থেকে আরেকটি সময় পর্যন্ত দামের পরিবর্তনের হার নির্ণয় করে থাকে। যখন দামের পরিবর্তন হয়, তখন Rate-of-Change Indicator-টি জিরো লাইনের ওপরে ও নিচে ওঠানামা করে। যেহেতু Rate-of-Change একটি momentum, তাই এর সিগনালগুলো অন্যান্য momentum এর মতোই হয়ে থাকে, যেমন center line crossovers, divergences and overbought-oversold।
এই পরিবর্তনের হার সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে, সেগুলো হচ্ছে- Up trend, Down trend ও Side Way। সাধারণত একটি Up trend গঠিত হয়, যখন কতগুলো higher highs এবং higher lows থাকে এবং দামও জিকজ্যাক করে Up trend অনুসরণ করে; Pull back, যখন একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর percentage move করে আর Down trend গঠিত হয়, যখন lows and lower highs এবং দামও জিকজ্যাক করে Down trend অনুসরণ করে।
আমরা চার্টে দেখতে পাচ্ছি, এপ্রিল ২০০৯ থেকে এপ্রিল ২০১০ পর্যন্ত শেয়ারটি Up trend ছিল এবং ভালোভাবে লক্ষ করলে আমরা দামেরও পরিবর্তন দেখতে পাব, যেখানে কতগুলো higher highs and higher lows ছিল, কারণ সর্বোপরি একটি Up trend ছিল। Rate-of-Change indicator-টি এখানে স্বল্প সময়ের অর্থাৎ short-term oversold নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। যখনই Indicator-টি Zero Line-এর নিচে এসেছে, ঠিক তার পর পরই আবার Up trend-এ চলে গেছে। খুব বেশি সময়ের জন্য The Rate-of-Change-টি oversold অবস্থায় ছিল না। সুতরাং কেউ যদি ওই অবস্থায় শেয়ার ক্রয় করেন এবং Zero Line অতিক্রম করার পর বিক্রয় করেন, তবে কিছু মুনাফা করতে পারেন। আপনি যদি এই Indicator-টির সঙ্গে simple moving average ব্যবহার করেন, তবে আরও ভালো দিক-নির্দেশনা পেতে পারেন।


Reversal Candle stick Pattern


আজ আমরা Reversal Pattern-গুলো সম্পর্কে জানব। Reversal Pattern-গুলো সাধারণত বিপরীত সংকেত প্রকাশ করে থাকে অর্থাৎ এই Candle stick-গুলো যদি upward ট্রেন্ডে দেখা যায়, তবে সেটি downward সংকেত দিয়ে থাকে এবং যদি downward ট্রেন্ডে দেখা যায়, তবে সেটি upward সংকেত দিয়ে থাকে।
১. Long-legged Doji : এই রেখাটি সবসময় একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এটি তখনই সংঘটিত হয় যখন প্রারম্ভিক ও সমাপ্তি মূল্য একই থাকে এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল্যের দূরত্ব পারস্পারিকভাবে অধিক হয়।
২. Dragon-fly Doji : এই রেখাটিও পরিবর্তনের আভাস দেয়। এটি তখনই সংঘটিত হয়, যখন প্রারম্ভিক ও সমাপ্তি মূল্য একই থাকে এবং সর্বনিম্ন মূল্য প্রারম্ভিক, সর্বোচ্চ ও সমাপ্তি  মূল্যের চেয়ে কম থাকে।
৩. Gravestone Doji : এই রেখার মাধ্যমেও আমরা পরিবর্তনের আভাস পাই। এটি আমরা দেখতে পাই যখন প্রারম্ভিক, সমাপ্তি ও সর্বনিম্ন মূল্য একই অবস্থানে থাকে এবং সর্বোচ্চ মূল্য প্রারম্ভিক, সমাপ্তি ও সর্বনিম্ন মূল্যের চেয়ে বেশি থাকে।
৪. Four Price Doji : এই কেন্ডেল স্টিকটির কোনো সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন কোনো মূল্য থাকে না, শুধু প্রারম্ভিক এবং সমাপনী মূল্য থাকে। এই প্রারম্ভিক এবং সমাপনী মূল্যের মধ্যেও কোনো ব্যবধান থাকে না।
৫. Star : স্টারগুলো রিভার্সেলের ইঙ্গিত দেয়। একটি বড় রেখার (রিয়েল বডি) পর এই রেখাটি ছোট দেহ নিয়ে আবির্ভূত হয়। যখন এটি বিয়ারিশ প্যাটার্নের পর আবির্ভূত হয়, তখন তা downtrend নির্দেশ করে এবং বুলিশ প্যাটার্নের পর আবির্ভূত হয়, তখন তা uptrendনির্দেশ করে। তবে স্টারটির অবশ্যই ছায়া থাকতে হবে, অন্যথায় এটি স্টার হিসেবে গণ্য হবে না।
৬.Doji star  : স্টারটি রিভার্সেলের এবং ডজিটি সিদ্ধান্তহীনতা নির্দেশ করে। যদিও এটি অনিশ্চিত সময়ে রিভার্সেলের ইঙ্গিত দেয়। ট্রেড করার পূর্বে এই ডজি দেখার পর আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।